সংসদে এটুআই বিল উত্থাপন, বিরোধী দলের আপত্তি 

৭ জুন, ২০২৩ ২১:০০  

অ্যাকসেস টু ইনোভেট নামে আত্মপ্রকাশের পর সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সল্যুশন দিয়ে এজেন্সি টু ইনোভেট হিসেবে প্রকল্প থেকে সরকারি সংস্থায় আত্মপ্রকাশ করছে এটুআই।   

বুধবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এটুআই বিল সংসদে উপস্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি পান প্রতিমন্ত্রী।

এরপর বিলটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে দেন স্পিকার। ভেটিং এর জন্য সময়ে বেধে দেয়া হয় ১৫ দিন।

তবে ওই বিলের বিরোধীতা করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ বলেছেন, জোনায়েদ আহমেদ পলক যে নতুন নতুন কোম্পানী খুলতে বিল আনছেন। এটা হচ্ছে ঠিক ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর মতো। সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্যকে নিজ হাতে নেবার একটা পাঁয়তারা।

তিনি আরো বলেন, ২০০৫ সালে স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পূর্ণভাবে অটোমেশন হয়ে গেছে। আর আজ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ওনারা সব কিছু অটোমেশন করেছেন, এটা ঠিক না। যেখানে ১৮ লাখ শেয়ার প্রতিদিন লেনদেন হয়। এক টাকাও এদিকে ওদিন হয় না। এটা ওনার নোটিশে থাকা উচিৎ।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, আমি যে বিলটি উত্থাপন করেছি, এটার কোন জায়গায় কিন্তু বলা নেই, একটা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হবে। একটা এজেন্সি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এটা কোম্পানি গঠনের জন্য আইন নয়, এটা মনে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ, সরকার আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠা করবে, কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি সে কাজগুলো করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরে বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠনো হয়। বিলে বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে এটুআই নামে একটি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করবে। এজেন্সি হবে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এই সংস্থার ১৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী বা, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন এর সভাপতি।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার উদ্ভাবন ও উন্নয়ন, উদ্ভাবনী সংস্কৃতির বিকাশ, পাবলিক সার্ভিসের ইনক্লুসিভ ডিজিটাইজেশন ত্বরান্বিতকরণ, জ্ঞানভিত্তিক সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা, জনগণের দোরগোড়ায় বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন 'অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)' প্রকল্প এবং বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন ‘এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)' প্রকল্প নামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও দপ্তর/সংস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সেবা প্রদানসহ ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, ই-নথি, ডি-নথি, শিক্ষক বাতায়ন ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, জাতীয় কলসেন্টার- ৩৩৩ ইত্যাদির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে উন্নত সেবা প্রদানে 'এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)' মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। পাবলিক সার্ভিসের ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকের জীবনমানে সৃষ্ট সেবা অধিকতর কার্যকর ও টেকসই করার জন্য 'এসপায়ার টু ইনোভেট' এর প্রতিস্থাপকরূপে স্থায়ী কাঠামো হিসেবে 'এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই)' নামে একটি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করা এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।